
২০২৪ সাল। লেখালেখিতে এক অদ্ভুত হতাশা আমাকে ঘিরে ধরেছিল। কিছু প্রকাশনাকে চিনতাম, সেগুলোতে বহুবার লেখা পাঠালেও প্রকাশনার শেষ ধাপেই এসে পথ থমকে যেত। মনে হতো শব্দগুলো বোধহয় আর কারও দরজায় পৌঁছাবে না। ঠিক সেই সময়ই পরিচয় হলো একটি পত্রিকার সাথে, যেখান থেকে আমার সাহিত্যজীবনের পথ নতুন করে আলো পেতে শুরু করে।
বিশেষ করে সমাজ বাস্তবতা ও প্রতিবাদধর্মী লেখা, যা অনেকেই অস্বস্তিতে এড়িয়ে যান; সেগুলো প্রকাশ করতে সম্পাদক আমাকে উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন,
“লেখা থামাবেন না। সমাজ যদি উপকৃত হয়, অসংখ্য মানুষ যদি একটি বাক্য থেকেও শক্তি পায়, সেটাই আপনার কাজের প্রকৃত সার্থকতা।”
এই বাক্যটাই আমার জন্য আশ্বাস নয়, একটি চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে। আর সেই অনুপ্রেরণার মূল মানুষ তিনি—সাংবাদিক আহমেদ হোসাইন ছানু।
ছানু ভাই শুধু সংবাদ লেখেন না, তিনি নীরব মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর রিপোর্টিং যেন কোনো ঘটনার বিবরণ নয়, বরং একটি সময়ের বিবেক।
না-পাওয়া মানুষের হাহাকার, উপেক্ষিত মানুষের কান্না, দুর্গত মানুষের ঢেউ; সবকিছুর মধ্যে তিনি খুঁজে নেন সত্যের আলো।
একজন সাংবাদিকের কাজ শুধু খবর প্রকাশ নয়, তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন একজন সাংবাদিক সমাজের আলোবাহক।
ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে, বন্যার বুকের ঠাণ্ডা পানি মাড়িয়ে, ক্ষুধার্ত মানুষের কণ্ঠ ধরে তিনি পৌঁছে গেছেন মাঠে–ঘাটে। যেখানে কেউ নেই, তিনি আছেন; যেখানে মানুষ ভয় পায়, তিনি দায়িত্বে অবিচল।
তাঁর হাতে ধরা ক্যামেরা কখনো অসহায়তার ক্রন্দন, আবার কখনো প্রতিরোধের শিখা হয়ে ওঠে। তাঁর প্রতিটি রিপোর্টিং শেষ পর্যন্ত সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করে: কোথাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, কোথাও অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে পড়ে।
জন্মভূমি জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রথম কলম ধরেছিলেন তিনি। স্থানীয় পত্রিকায় লেখা দিয়ে শুরু, এরপর সুনামগঞ্জে পরিচিতি। তারপর সিলেট শহরে সাংবাদিকতার গভীর অভিজ্ঞতা। অবশেষে স্বপ্নকে সত্য করতে ঢাকায় এসে প্রতিষ্ঠা করেন ‘আলো মিডিয়া গ্রুপ’।
আজ এই প্রতিষ্ঠান শুধু সংবাদ প্রকাশ করে না! মানবিক উদ্যোগ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সাহিত্যচর্চা ও নতুন লেখকদের উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
অনেক তরুণ লেখকের মতো আমিও এর ঋণী।
২০২৪ সালে তাঁর সম্পাদনায় ‘আজকালের আলো’ পত্রিকায় লেখালেখি করা আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা আমাকে নতুন শক্তি ও পরিচয় দিয়েছে।
যখন মুনাফাখোররা সংবাদকে বিকৃত করে, যখন সমাজ অন্যায়ের ভারে নুয়ে পড়ে, যখন সত্য বলা বিপদের কারণ হয়ে ওঠে: তখনও ছানু ভাই দাঁড়ান অটল।
তিনি বিশ্বাস করেন,
“সত্যকে পাশে নিলে ভয় আপনিই সরে দাঁড়ায়।”
এই বিশ্বাসই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। তাই তিনি কেবল একজন সাংবাদিক নন, তিনি সমাজের আলোকযোদ্ধা।
আহমেদ হোসাইন ছানু দেখিয়েছেন: যে কলম সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, যে কলম মানুষের জন্য লড়ে যায়, সেই কলমই সমাজ বদলে দিতে পারে।
আর সেই আলোর পথে আমিও একদিন হাঁটতে শুরু করেছি, তাঁর দেওয়া সাহস, উৎসাহ আর বিশ্বাসকে প্রেরণা করে।