
কলমেঃ মোঃ সাব্বির হোসেন টুটুল
হে জামিনদার_
এ আমায় তুমি কেমন জামিন দিলে,
তুমি কেমন জামিনদার?
আমি সময় মতো তোমার দরবারে হাজিরা দিচ্ছি না,
কোনো সুপারিশকারীর নিকট শরণাপন্ন হচ্ছি না,
তবু তুমি আমায় ফের কেন আটক করছ না?
হায়! তবু কেন যে আমি বিমুখ হয়ে পালিয়ে বেড়াই!
হে জামিনদার_
এ আমায় তুমি কেমন জামিন দিলে,
তুমি কেমন জামিনদার?
তোমার সম্মুখে সরাসরি কথা বলতে কারও মুখাপেক্ষী হতে হয় না,
কারও তদবির নিতে হয় না।
হায়! তবু কেন যে আমি বিমুখ হয়ে পালিয়ে বেড়াই!
হে জামিনদার_
এ আমায় তুমি কেমন জামিন দিলে,
তুমি কেমন জামিনদার?
এ কেমন তোমার অদ্ভুত সংরক্ষণশীলতা!
কোনো পাহারাদার নেই, কোনো নির্দিষ্ট সময়ের ধরা বাঁধা নিয়ম নেই, যখন খুশি ঠিক তখন তোমার নিকট আশ্রয় চাওয়া যায়।
হায়! তবু কেন যে আমি বিমুখ হয়ে পালিয়ে বেড়াই!
হে জামিনদার_
এ আমায় তুমি কেমন জামিন দিলে,
তুমি কেমন জামিনদার?
তোমার অনুগ্রহ পেতে আমার কারও ঘুষ দিতে হয় না,
তোমার কৃপা পেতে আমার কোনো পেশাদারি গাদ্দারের নিকট যেতে হয় না।
একটু হৃদয় উন্মুক্ত করে ডাকলেই তোমায় খুঁজে পাই।
হায়! তবু কেন যে আমি বিমুখ হয়ে পালিয়ে বেড়াই!
হে জামিনদার_
এ আমায় তুমি কেমন জামিন দিলে,
তুমি কেমন জামিনদার?
আমি তো তোমার অধীনে সীমাবদ্ধ থেকেও কৌশলে তোমার অবাধ্য হয়ে ফেরারি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।
আমি জানি তুমি সকল ইনসাফের ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠিত।
তোমার বিচার কার্য অত্যন্ত নিখুঁত ও সুক্ষ্ম।
হায়! তবু কেন যে আমি বিমুখ হয়ে পালিয়ে বেড়াই!
হে জামিনদার_
এ আমায় তুমি কেমন জামিন দিলে,
তুমি কেমন জামিনদার?
তুমি কী দেখো না, দুনিয়ায় ক্ষণচারী জামিনদারের কার্যপ্রণালী!
কত ওলটপালট পৃষ্ঠার ধূলি জমা পড়ে থাকে কাগজের চকচকে নোটে।
তুমি কী দেখো না কত নিরপরাধ সেই ধূলিকণায় চাপা পড়ে ভস্মিত হচ্ছে!
কিন্তু তুমি কেমন জামিনদার?
আমি এত জঘন্য অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও আমায় তুমি আটক করছ না, বরঞ্চ উল্টো খাওয়াচ্ছ, পরাচ্ছ এবং কি বুক ভরে মুক্ত নিঃশ্বাস নিতে দিচ্ছ।
কী! বোকা তুমি!
আর তাই তো আমি; সহস্র অন্যায় অপরাধ করার পরেও তোমার হতে বিমুখ হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
তবে আমি জানি,
তুমি একদিন আমায় ঠিকই ধরবে!
সেদিন আর আমি পালিয়ে রেহাই পাব না।
তবুও আমি বলি কী;
এখন যে ভাবে ছাড় দিচ্ছ, ঠিক এমন করে সেইদিন আমায় ছাড় দিও প্লিজ!
কেননা তুমি ছাড়া আমার কে আছে বলো?
কে আছে এমন তোমার মতো করে আমায় ভালোবাসতে পারবে।
বলো তুমি, বলো?