পাবনা প্রতিনিধি:
১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ১ নং চিনাখড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নে অবস্থিত।
বছর কয়েক আগে বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনের ছাঁদে এবং দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ক্লাশ চলছে প্রাক- প্রাথমিক এবং চতুর্থ শ্রেণীর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ের নাজুক ভবনটি যেকোন মূহুর্তে ধসে পড়তে পারে। তবুও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য করা হয় নাই কোন বিকল্প ব্যবস্থা।
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর একটা দুতলা নতুন ভবন নির্মান করা হলেও তা হস্তান্তরে দীর্ঘ সময় ব্যয় করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার সারাদেশে অনুভূত ভূমিকম্প ও শনিবারের দুটি পরকম্পনের পর যখন অনেক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করেছে - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ- ঠিক তখনই চিনাখড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা বসে ছিলো এমন এক ভবনের ভেতরে, যাদের অপরিনত বোধ ও বয়সের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বোঝার ক্ষমতা নাই। তাদের অনভিজ্ঞতা ও ভবনের দুরবস্থা মিলে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্বেও এখনো শিক্ষানুষ্ঠানে উপযুক্ত কোন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় নাই। শিক্ষকরা বলছেন, বিদ্যালয় বন্ধ করলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ক্ষতি হবে। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাশ চালাচ্ছেন। কিন্তু অভিভাবকরা উৎকণ্ঠায়, ভূগছেন - বাড়িতে রেখে দিলে পড়াশোনা বাধাগ্রস্থ, পাঠালে জীবন- ঝুঁকি বারে।
এলাকাবাসীরা দাবি করেছেন- ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্বেও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি এবং শিশুদের জন্য কোন বিকল্প ক্লাশ রুমের ব্যবস্থা করা হয় নাই। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে শিশুদের জন্য বিকল্প ক্লাশ রুমের ব্যবস্থা করা হোক।
গত শুক্রবারের ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নতুন করে ছাঁদ এবং দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিমের পলেস্তারা খসে পড়েছে। পিলার ফেটে বসে গেছে।
ভূমিকম্প-সংবেদনশীল অঞ্চলে দাঁড়িয়ে এমন দুর্বল ভবনে শিক্ষাদান করা সরাসরি নিরাপত্তাহীনতার পরিচয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সামান্য মাঝারি মাত্রার কম্পনেও ড্যামেজপ্রবণ থাকলে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। সম্প্রতি দেশের যে মর্মান্তিক স্কুল ভবন ধসের ঘটনা সেটিও এই আশঙ্কাকে সরাসরি জাগিয়ে তোলে।
চিনাখড়া এলাকার শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা অন্যান্যের মধ্যে দাবি করেছেন—তৎগ্রাহীভাবে নিরাপদ বিকল্প স্থানে ক্লাস পরিচালনা, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ বা দ্রুত নতুন ভবনে ক্লাস চালু করা হোক। না হলে বিদ্যমান পরিস্থিতি কোনো বড় দুর্ঘটনার পূর্বসূরী হতে পারে বলেই তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ—চিনাখড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জীবন রক্ষার জন্য অবিলম্বে সক্রিয় পদক্ষেপ নিন। শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ—তাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা দুটোই প্রতিষ্ঠা করা আমাদের যৌথ দায়িত্ব।